সিএন প্রতিবেদন: ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে সবচেয়ে মানবিক ও নীতিবান বলে দাবি করেছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
চলতি সপ্তাহে জার্মানির একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ ২১তম দিনে গড়িয়েছে। বিগত ২০ দিনে হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ৭ হাজার ২৮ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত সাড়ে ১৮ হাজার। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের মন্ত্রী এই দাবি করলেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের ‘মানবিক’ সেনারা গাজা ছিটমহলে চলমান বোমাবর্ষণে সংযম দেখাচ্ছে। ‘আমরা মানবিক। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে নীতিবান সামরিক বাহিনী।’
কাটজ সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল কট্টরবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। কট্টরবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে ইসরায়েল বাহিনীর প্রতিক্রিয়া মানবিক বলে উল্লেখ করেছেন সরকারদলীয় এ মন্ত্রী।
কাটজ বলেন, ‘এ জনগোষ্ঠীকে অনাহারে মারার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা হামাসকে উচ্ছেদ করতে চাই। তাই আমরা বাসিন্দাদের দক্ষিণে চলে যেতে বলছি। সেখানে তারা পানি, খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য সবকিছু পাবে।’
গত ৭ অক্টোবর সকালে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তারা মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলের দিকে ৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। একই সঙ্গে স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে দেশটিতে ঢুকে পড়েন হামাস যোদ্ধারা। হামাসের হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। এখনো অনেকে হামাসের কাছে বন্দী আছে।
এর জবাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ঘনবসতিপূর্ণ গাজায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানো শুরু করে। এসব হামলায় নিহতদের প্রায় শতভাগই বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে আবার অধিকাংশই নারী ও শিশু।
সর্বশেষ আপডেটে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত) ইসরায়েলি হামলায় আরও প্রায় ৫০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৮ জনে। এ সময় আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৮ হাজার ৫০০ জন।
সিএন/এমটি



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন