চলমান ডেস্ক:
গত ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশের কুমিল্লা শহরের নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপে ‘পবিত্র কোরআন’ অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত পাঁচদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানের মন্দির-পূজামণ্ডপে হামলা, ভাংচুর ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনি, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কারও কারও নাম উল্লেখ করা হলেও সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা হিসাবে শতাধিক থেকে শুরু করে কয়েক হাজার মানুষকে আসামী করা হয়েছে। ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এসব সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কয়েকশো মানুষ।
ঢাকায় আসামী চার হাজারের বেশি:
কোরআন অবমাননার ঘটনায় ঢাকার দুই থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০০ জনের নামে মামলা হয়েছে। রমনা ও পল্টন থানায় করা এসব মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে রমনা থানার মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে আসামী ৫০০ জনের বেশি, গ্রেপ্তার ৮৪
কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে শুক্রবার আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জেএম সেন হলের পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটে। পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনায় ৮৪ জনের নাম উল্লেখ আর অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ ব্যক্তিকে আসামী করে শনিবার মামলা করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা, পুলিশের ওপর হামলা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় এসব মামলা করা হয়েছে।
কুমিল্লায় গ্রেপ্তার ৪০ জন
কোরআন অবমাননা ও প্রতিমা ভাঙচুরের মামলায় কুমিল্লায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা করেছে। র্যাবের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেসব মামলায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে। এরমধ্যে যে ব্যক্তির মোবাইল ফোন দিয়ে মণ্ডপে কোরআন রাখার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছিল, তাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরেই সারাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আসামী দুই হাজারের বেশি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বুধবারের সহিংসতার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। হাজীগঞ্জ থানায় হামলায় ও পুলিশ আহতের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। এছাড়া দু’টি মন্দিরের কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে দু’টি মামলা করেছেন। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জে আসামী ৩৫ জন
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুন্ধর ইউনিয়নে কাদিম মাইজহাটি গ্রামের একটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামী রয়েছে ৩০/৩৫ জন। এদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফেনীতে আসামী শতাধিক
ফেনীতে পূজামণ্ডপে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দান সহ ইত্যাদি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম মামলায় অজ্ঞাতনামা আড়াইশো ব্যক্তিকে, দ্বিতীয় মামলায় ১৫০ ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
নোয়াখালীতে আসামী দুই হাজারের বেশি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। এ কারণে ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি হত্যা মামলা করেছে। সেখানে কয়েকজন এজাহারে নাম রয়েছে এমন সহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। এর বাইরে পুলিশ বাদী হয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি অভিযোগ তিনটি মামলা করেছে। সেসব মামলায় ২০০ ব্যক্তির নাম উল্লেখ আর দুই থেকে আড়াই হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন