শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারে চার্জ আরো কম দিতে চায় ভারত

শনিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২১

প্রিন্ট করুন
246508859 10228309240217245 3373431273021713878 n 1

মোহাম্মদ আলী: মালামাল বহনে ট্রান্সশিপমেন্ট পয়েন্ট হিসেবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে চার্জ আরো কম দিতে চায় ভারত। এতে সম্মত হয়ে চার্জ আরো কমিয়ে আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এছাড়া কনটেইনারের পর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে কার্গো ট্রান্সশিপমেন্ট শুরু করতে চায় ভারত, তাই বাংলাদেশকে চার্জ আরো কমিয়ে আনতে অনুরোধ করেছে দেশটি। খবর কনটেইনার নিউজের।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘এটা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। ফিল্ড অফিসারদের এগুলো জানার কথা না। এগুলো হল পলিসি লেভেলের বিষয়।’

ভারত মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তার উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে কনটেনার বহন করতে চায়। এতে দুর্গম সেভেন সিস্টার রাজ্যে পণ্য পাঠাতে বিপুল সময় ও খরচ বেঁচে যাবে। এ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের নৌ সচিবরা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসেছেন। এছাড়া, জনবহুল চট্টগ্রাম বন্দর এড়িয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য রপ্তানি ও আমদানি করতে বাংলাদেশের ভারতীয় সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করাও এজেন্ডায় রয়েছে। বৈঠকে অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরার মত উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলিতে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ভারতীয় জলের ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য বাংলাদেশে আরো বেশি বন্দর যোগ করার বিষয়েও আলোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারত চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের ভারতীয় ব্যবহারের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। এর পর, এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশ ২০১৮ সালে একটি চুক্তি সই করেছিল। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারতের ত্রিপুরা ও আসামে চারটি ভারতীয় কনটেইনার বহনের প্রথম ট্রায়াল রান গত বছরের জুলাইয়ে হয়েছিল। বাংলাদেশের শুল্ক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শুল্ক ও প্রদত্ত কিছু পরিষেবার বিপরীতে প্রতি টন সাড়ে ছয় মার্কিন ডলার চার্জ করেছিল।

পরিসংখ্যান মতে, ভারত চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর বা বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারলে, ভারতীয় বাহনগুলিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুয়াহাটি হয়ে আগরতলা অবতরণে পণ্য পরিবহনের জন্য এক হাজার ৬৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে।

অন্যদিকে, ভারত চায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা তার অব্যবহৃত সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ইউরোপ ও আমেরিকা ও অন্যান্য গন্তব্যে থেকে রপ্তানি ও আমদানি পণ্য পাঠাতে ও গ্রহণ করতে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপকূলীয় জাহাজের মাধ্যমে তৃতীয় দেশ থেকে কার্গো পাঠানো ও গ্রহণ করতে বাংলাদেশ ও ভারতকে ‘প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি)’ ও বাংলাদেশ-ভারত উপকূলীয় শিপিং চুক্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নতুন বন্দর ও টার্মিনাল নির্মাণ করছে, যা খুব শিগগির পণ্য হ্যান্ডলিং ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিলে দেশের নিজস্ব বন্দর ও টার্মিনালের ব্যবসায় কমবে কিনা- এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার দিধা-দ্বন্ধে রয়েছে।

নৌ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী গণ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভারতীয় প্রস্তাবের সব সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে পরীক্ষা করা হবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ সচিব পর্যায়ের বৈঠক, ২১তম স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ও দ্বিতীয় ইন্টার গভার্নমেন্টাল কমিটির বৈঠক নয়াদিল্লীতে ২০-২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে অংশ নিতে ২১ জনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ১৯ অক্টোবর নয়াদিল্লীর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে। নৌ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি সচিব পর্যায়ের বৈঠক ও ইন্টার গভার্নমেন্টাল কমিটির বৈঠকে নেতৃত্ব দিবেন। প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের (পিআইডব্লিউটিটি) আওতাধীন ২১তম স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংস্থা-এক) একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান, মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলমও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।

দুই দেশের নৌ সচিব পর্যায়ের শেষ বৈঠক ২০১৯ সালের ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন