সিএন প্রতিবেদন: স্বাধীনতার পর জাতীয়করণ হওয়া প্রায় দেড়শ পাট ও বস্ত্রকল দেশের শিল্পায়নের বড় ভরসা ছিল। কিন্তু যুগোপযোগী বাজার তৈরি করতে না পারা এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে একে একে বন্ধ হয়ে যায় এসব কলকারখানা। এখন সরকার নতুন করে সেগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, তবে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) হাতে থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি ইজারার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, সাতটি এখনো বাকি। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে থাকা ২৫টি বস্ত্রকলের মধ্যে সাতটি ইতিমধ্যে বেসরকারি খাতে গেছে। বাকি নয়টি মিল ইজারার অপেক্ষায়।
অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত বাকি মিলগুলোও উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দিতে চায়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখন সিদ্ধান্ত হচ্ছে যোগ্যতা ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। বিনিয়োগ করুন, দেশকে ও নিজেকে লাভবান করুন।”
সরকার শুধু দেশীয় উদ্যোক্তাদের নয়, পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদেরও আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমে বিদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফ জানান, আগে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি মিল নতুন উদ্যোক্তাদের হাতে হস্তান্তর হয়েছে।
বিজেএমসির যেসব পাটকল ইজারা দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জুট মিল, যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, দৌলতপুর জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিল ও গুল আহমদ জুট মিলসহ আরও কয়েকটি। অন্যদিকে বিটিএমসির ইজারাকৃত কারখানার মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলস, সিলেট টেক্সটাইল মিলস ও চট্টগ্রামের ভালিকা উলেন মিলস।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বন্ধ থাকা এই কলগুলো পুনরায় চালু হলে দেশের শিল্পখাতে নতুন প্রাণ ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশীয় সুতা, কাপড় ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন আবারো বাড়বে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন