শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ ঘোষণা, নজর এখন সুপ্রিম কোর্টে

রবিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৫

প্রিন্ট করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, ট্রাম্প ‘জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই ক্ষমতা তাঁকে আইন অনুযায়ী দেওয়া হয়নি।

৭–৪ ভোটে দেওয়া রায়ে আপিল আদালত স্পষ্ট জানায়, প্রেসিডেন্টকে এমন বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়নি যে তিনি একতরফাভাবে বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করবেন। এর আগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতও একই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘দেশের জন্য বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, রায় বহাল থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাত পেতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আপিল আদালতের এই রায় শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন অনিশ্চয়তায় পড়বে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির লক্ষ্য ছিল দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু আদালতের রায় বহাল থাকলে শুল্ক সংগ্রহ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

রাজনৈতিক দিক

এখন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের পক্ষে যেতে পারে। তবে ইতিহাস বলছে, আদালত প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের নীতির বিরুদ্ধেও রায় দিয়েছে। যেমন বাইডেন প্রশাসনের সময় পরিবেশ ও শিক্ষাঋণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা আটকে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

এরপর কী?

সুপ্রিম কোর্ট যদি আপিল আদালতের রায় বহাল রাখে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আমদানি শুল্ক ফেরত দিতে হতে পারে। আর যদি রায় বাতিল হয়, তবে ট্রাম্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের হাতে বাণিজ্য নীতির ওপর বাড়তি ক্ষমতা চলে আসবে।

আপাতত ট্রাম্প শুল্ক ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি লিখেছেন, “আমাদের দেশের স্বার্থে আমরা সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় শুল্ক ব্যবহার করব, আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী করব।”

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন