চলমান ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার গওতেং প্রদেশে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট ‘অত্যাধিক ভয়াবহ’ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গওতেং প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৭৭ জনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া বতসোয়ানায় চার জন এবং হংকংয়ে এক জন এই ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক টুলিও ডি অলিভিয়েরা বলেছেন, নতুন ধরা পড়া এই ভ্যারিয়েন্ট আগেরগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি অস্বাভাবিক। এই ভ্যারিয়েন্ট আমাদের অবাক করেছে। বিবর্তনের হিসেবে এবং পরবর্তী মিউটেশনের হিসেব করলে এটি কয়েক ধাপ লাফ দিয়েছে।
অধ্যাপক অলিভিয়েরা বলেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টে সব মিলিয়ে ৫০টি মিউটেশন রয়েছে যার মধ্যে ৩০টি মিউটেশেনই স্পাইক প্রোটিনে। অধিকাংশ টিকাই স্পাইক প্রোটিনের এই ভ্যারিয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করে।
তিনি বলেন, ভাইরাসের যে অংশটি – রিসিপটর বাইন্ডিং ডোমেইন – আমাদের শরীরের কোষের সাথে প্রথম সংযোগ ঘটায়, নুতন ভ্যারিয়েন্টে সেটির ১০টি মিউটেশন রয়েছে। ভয়াবহ ক্ষতিকর হিসেবে আলোড়ন তৈরি করা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে এই মিউটেশন ছিল মাত্র দুটি।
অনেকগুলো মিউটেশন থাকা মানেই যে তা ক্ষতিকর, তা নয়। কিন্তু মিউটেশনগুলো আসলে কী ক্ষতি করছে – তা জানা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, চিন্তার বিষয় হলো চীনের উহানে উদ্ভূত ধরণের চেয়ে এটি অনেক ভিন্ন। এর অর্থ হলো, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে তৈরি হওয়া টিকা – যেগুলো মূল ধরণটি ব্যবহার করে বানানো হয়েছিল – নতুন ধরণের জন্য সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
এইদিকে নতুন ভ্যারিয়েন্টের সাথে আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর বেশ তফাত দেখা দিয়েছে। এটির ক্ষতির মাত্রা চরম পর্যায়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড লেসেলস বলেন: “দমিউটেশনগুলো ভাইরাসকে সংক্রমণে, এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী করেছে বলে আশঙ্কা করছি আমরা। ইমিউন সিস্টেমের বিভিন্ন অংশকে পাশ কাটিয়ে শরীরে প্রবেশ করার সক্ষমতাও থাকতে পারে এগুলোর।
এর আগেও করোনাভাইরাসের নতুন আবিষ্কৃত হওয়া ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে আতঙ্ক শুধু কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।
তিনি বলেন, এ বছরের শুরুতে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি করেছিল বেটা ভ্যারিয়েন্ট। ইমিউন সিস্টেমকে ভেঙ্গে শরীরে প্রবেশ করার সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ছিল ঐ ভ্যারিয়েন্টের। কিন্তু পরবর্তীতে দ্রুত সংক্রমিত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই বেশি ভয়াবহ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাভি গুপ্তা বলেন, বেটা শুধু ইমিউন সিস্টেমকে ফাঁকি দিতো, আর কিছু না। ডেল্টার সংক্রমণের ক্ষমতা ছিল বেশি। নতুন ভ্যারিয়ন্টের এই দুই ধরণের ক্ষতি করারই সামর্থ্য রয়েছে।
২০১৯ সালের চীন থেকে সারাবিশ্বে মহামারী এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এখনো পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৬ কোটি ২ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫১ লাখ ৯৮ হাজার।
আইআই/



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন