শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক

শুক্রবার, জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা সামরিক হামলার হুমকির মুখে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা লক্ষ্য করা যায়। খবর আলজাজিরার।

বৈঠকে জাতিসংঘে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দারজি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ আনেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরান কোনো সংঘাত চায় না, তবে যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চূড়ান্ত এবং আইনানুগ জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। তিনি মার্কিন হুমকিকে আইন বহির্ভূত আখ্যা দিয়ে এর পরিণতির জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেন।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ ইরানের বিক্ষোভ দমনে সরকারি কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে রাখায় সেখানে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ওয়াল্টজ মন্তব্য করেন, ইরানের জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছে এবং বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া আসলে সরকারের নিজ জনগণের প্রতি ভীতির বহিঃপ্রকাশ। যদিও এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বারবার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে বৈঠকের দিন মার্কিন প্রতিনিধিদের বক্তব্যে সেই সুর কিছুটা নরম দেখা গেছে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি পরিষদকে জানান, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভটি দ্রুত দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে।

পোবি এই প্রাণহানির ঘটনায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান এবং আটকদের ওপর কোনো ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার জন্য ইরানের প্রতি অনুরোধ জানান। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাদের মধ্যে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি অন্যতম।

ওয়াশিংটনের দাবি, এই কর্মকর্তারা বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর ভূমিকা পালন করছেন। বৈঠকে ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদও বক্তব্য রাখেন এবং ইরান সরকারের এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির বৈঠক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ও উত্তেজনার নতুন এক চিত্র তুলে ধরেছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন