ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে মার্কিন কোস্টগার্ড ‘ভেরোনিকা’ নামক এই জাহাজটি আটক করে, যা গত কয়েক সপ্তাহে জব্দ করা ষষ্ঠ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় আটকের পর চতুর্থ ট্যাংকার। খবর আলজাজিরার।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানান, ট্যাংকারটি ভেনেজুয়েলার জলসীমা অতিক্রম করার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘কোয়ারেন্টাইন’ বা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে।
বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড থেকে পরিচালিত এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের বিশেষ দল অংশ নেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল যখন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির তেল খাতে বড় ধরনের আইনি সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, হাইড্রোকার্বন আইনে সংস্কার আনা হবে যাতে তেল উত্তোলনে বিদেশি বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করা যায়।
রদ্রিগেজ আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কারের ফলে নতুন তেলক্ষেত্রে বিনিয়োগ আসবে এবং এর মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জনসেবা ও শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ এখন ওয়াশিংটনের হাতে। তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি সরাসরি বলেন, এখন থেকে তাদের ভেনেজুয়েলার পরিবর্তে সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে লেনদেন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল মজুতকারী দেশ হলেও বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে তাদের উৎপাদন বিশ্ববাজারের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন