শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

আলোচনা যতই হোক দখল করা ভূমি ছাড়বে না রাশিয়া

শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠককে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হলেও শান্তি ফেরার পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার কঠোর অবস্থান। ক্রেমলিন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আলোচনা চললেও দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে মস্কোতে সাত দফা বৈঠকের পর এই আবুধাবি সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ইগর কস্ত্যুকভ।

সামরিক গোয়েন্দা প্রধানের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আলোচনার কেন্দ্রে এখন রাজনৈতিক সমাধানের চেয়ে সামরিক কৌশলগত বিষয়গুলোই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। বৈঠকে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও রাশিয়ার দেওয়া শর্তগুলো কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পুনরায় দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে অবশ্যই দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সরে যেতে হবে।

একই সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কিয়েভের বর্তমান সরকারকে ‘নাৎসি শাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেখানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতির জন্য কিয়েভ ও মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জার্মানির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে রাশিয়া আদৌ তাদের সর্বোচ্চ দাবির জায়গা থেকে সরবে কি না। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেবল রাশিয়ার শর্ত মেনে চুক্তি করলে তা মস্কোকে ভবিষ্যতে আবারও হামলার সুযোগ করে দিতে পারে। অন্যদিকে তীব্র শীতের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো হারিয়ে বিপাকে থাকা ইউক্রেন এখন একদিকে শান্তি আলোচনা আর অন্যদিকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন