রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

জ্যামাইকায় আরাফা ইসলামিক সেন্টারে মুসল্লিদের হট্টগোল

রবিবার, জানুয়ারী ২৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় অবস্থিত আরাফা ইসলামিক সেন্টারে মুসল্লিদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খান মুসল্লিদের একটি অংশের তীব্র আক্রোশের শিকার হন।

জানা গেছে, মসজিদের জন্য আমীর খানের দেওয়া প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলারের কর্জে হাসানা (বিনা সুদের ঋণ) পরিশোধের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে একাংশ মুসল্লি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

মসজিদ সংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, শুরুতে একটি ছোট জায়গা ভাড়া নিয়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কমিউনিটির সহযোগিতায় তিনটি প্লট ক্রয় করে সেখানে একটি সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করা হয়। যার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে আমীর খানের।

মুসল্লিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কের মুসলিম কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন আমীর খান। ইসলামের খেদমতের মানসিকতা থেকে তিনি কমিউনিটির সহযোগিতায় জ্যামাইকায় আরাফা ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। মসজিদ নির্মাণে সাধারণ মুসল্লিদের অনুদানের পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে বিনা সুদে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেন।

তবে মুসলিম কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করলেও এবার সেই কমিউনিটির একটি অংশের অসন্তোষের মুখে পড়েন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে কর্জে হাসানা পরিশোধের প্রসঙ্গ উঠতেই মুসল্লিদের একাংশ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি শান্ত করতে অন্য মুসল্লিরা এগিয়ে আসেন।

এ ঘটনায় মসজিদের সাবেক এক পরিচালক অভিযোগ করা বলেন, শুরু থেকেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তাকে (আমীর খান) বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে মসজিদ পরিচালনা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ঘটনার সময় মসজিদের ভেতরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও পুলিশকে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আমীর খান বলেন, পুলিশ ডাকলে মুসল্লিদের মধ্যে ভীতি ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তিনি চান, মুসলিম কমিউনিটি সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর ঘর ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকুক।

এদিকে সাধারণ মুসল্লিরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত মতভেদ ও বিভাজন পরিহার করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মসজিদের উন্নয়ন ও কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করা প্রয়োজন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন