সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

চীনের সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পিছু হটল কানাডা

সোমবার, জানুয়ারী ২৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

চীনের সঙ্গে কোনো ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডার পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির পর রবিবার (২৫ জানুয়ারি) কার্নি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কানাডা যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রসর হয়, তবে দেশটিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

এর জবাবে কার্নি বলেন, চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতাটি কেবল কিছু নির্দিষ্ট খাতের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়, যা সম্প্রতি বিতর্কিতভাবে বাড়ানো হয়েছিল। মূলত কানাডার কৃষি পণ্যের ওপর চীনের কর কমানোর বিনিময়ে দেশটিতে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর শুল্ক কমানোর একটি চুক্তি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন যে চীন সফলভাবে কানাডাকে সম্পূর্ণ দখল করে নিচ্ছে। ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি আশা করেন চীন অন্তত আইস হকি খেলাটিকে ছেড়ে দেবে।

ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, মার্ক কার্নি যদি মনে করেন তিনি কানাডাকে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ‘ড্রপ অফ পোর্ট’ বা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করবেন, তবে তিনি ভুল করছেন। কার্নি এই অভিযোগের বিপরীতে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সাথে কানাডার যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, সেখানে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে যে অন্য কোনো ‘নন-মার্কেট’ অর্থনীতির সাথে কোনো চুক্তি করার আগে অংশীদারদের অবহিত করা হবে। কানাডার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার কোনো ইচ্ছাই নেই।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনেও এই দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে।’ এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কার্নি বলেন, কানাডা বিশ্বকে এটি দেখিয়ে দিতে পারে যে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার সামনে নতি স্বীকার করার প্রয়োজন নেই।

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং ন্যাটোর ভেতরে অস্থিরতার কারণে দুই দেশের এই কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। কার্নি জোর দিয়ে বলেন, চীনের সাথে বর্তমান সমঝোতাটি কেবল গত কয়েক বছরে তৈরি হওয়া কিছু বাণিজ্যিক জটিলতা সংশোধনের অংশ মাত্র, একে কোনোভাবেই বড় আকারের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বলা চলে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন