বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

অভিবাসন ইস্যুতে ইউরোপের কড়া নীতির বিপরীতে স্পেনের চমক

বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ যখন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে, ঠিক সেই সময়ে সম্পূর্ণ বিপরীত ও মানবিক এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল স্পেন।

দেশটির সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের মতে, অভিবাসীরা স্পেনের অর্থনীতি ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইজ জানান, এই প্রক্রিয়ায় বৈধতা পাওয়া ব্যক্তিরা দেশের যেকোনো প্রান্তে এবং যেকোনো খাতে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা ইতিমধ্যে স্পেনে বসবাস করে দেশ গঠনে অবদান রাখছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। মূলত বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে স্পেনের জন্য এই নতুন শ্রমশক্তি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই ঘোষণার ফলে জোয়েল ক্যাসেডার মতো হাজারো মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। পেরু থেকে আসা ৩০ বছর বয়সী এই যুবক একটি দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পরও গত ছয় বছর ধরে স্পেনে অবৈধভাবে প্যাকেট ডেলিভারির কাজ করছেন।

তিনি আল জাজিরাকে জানান, বৈধতা পাওয়ার অর্থ হলো এখন তিনি তার পরিবার নিয়ে মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠাঁই এবং সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারবেন। ওউসমান উমর ও লামিন সারের মতো সাবেক অভিবাসীরাও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তাদের মতে, এটি কেবল অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং পুরো স্প্যানিশ সমাজের জন্য ভালো হবে। কারণ বৈধভাবে কাজ করলে তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ফি প্রদান করতে পারবেন।

নতুন এই নিয়মে যারা অন্তত পাঁচ মাস ধরে স্পেনে বসবাস করছেন এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছেন, তারা বৈধতার এই সুযোগ পাবেন।

আগামী এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। তবে সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে স্পেনের ডানপন্থী দলগুলো। অতি-ডানপন্থী দল ‘ভক্স’-এর নেতা সান্তিয়াগো আবাসকাল এই পদক্ষেপকে ‘অনুপ্রবেশ’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন যে এটি আরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে উৎসাহিত করবে এবং দেশের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

তা সত্ত্বেও, কোনো সংসদীয় ভোটাভুটি ছাড়াই ডিক্রি জারির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যাচ্ছে স্পেনের বর্তমান জোট সরকার।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন