কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নতুন নথি সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। নতুন নথি প্রকাশের পর আবারও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবার।
সদ্য প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, যৌন অপরাধে দণ্ডিত এপস্টেইন এক ব্যক্তিকে ২৬ বছর বয়সী এক রুশ নারীর সঙ্গে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আমন্ত্রিত ব্যক্তি আর কেউ নন— ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
২০১০ সালের আগস্টে আদান-প্রদান হওয়া এসব ইমেইলে ‘এ’ নামে স্বাক্ষর রয়েছে, যার নিচে ‘অনারেবল ডিউক অব ইয়র্ক কেজি’ লেখা। ইমেইলগুলো এপস্টেইনের সাজা শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস পর আদান-প্রদান হয়েছিল।
নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন ওই ‘ডিউক’-কে জানান, এক রুশ তরুণী আগস্ট মাসে লন্ডনে থাকবেন এবং তার সঙ্গে নৈশভোজ উপভোগ্য হতে পারে। জবাবে ‘ডিউক’ জানান, তিনি ২২ আগস্ট পর্যন্ত জেনেভায় থাকবেন, তবে দেখা করতে আগ্রহী।
একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, ওই নারী কি এপস্টেইনের কোনো বার্তা নিয়ে আসবেন এবং তার সম্পর্কে আরও কোনো তথ্য আছে কিনা।
এর জবাবে এপস্টেইন লেখেন, ওই নারী ‘২৬ বছর বয়সি, রুশ, বুদ্ধিমতী, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য’ এবং তার কাছে ‘ডিউক’-এর ইমেইল ঠিকানা রয়েছে।
একই নথিতে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আরেকটি ইমেইল বিনিময়ের কথাও উঠে এসেছে। সেখানে এপস্টেইন লন্ডনে থাকার কথা জানিয়ে ‘ব্যক্তিগত সময়’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
জবাবে ‘ডিউক’ প্রস্তাব দেন, বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজ আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে ‘পর্যাপ্ত গোপনীয়তা’ থাকবে।
তবে এসব ইমেইল থেকে সরাসরি কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবিসি নিউজ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগেও তিনি বারবার এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
নথিতে ২০২০ সালের একটি চিঠিও রয়েছে, যেখানে মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানায়।
সেখানে বলা হয়, তদন্তসংশ্লিষ্ট কিছু ঘটনায় তিনি সাক্ষী বা অংশগ্রহণকারী হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। যদিও একই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রিন্স অ্যান্ড্রু সে সময় তদন্তের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে মার্কিন আইনে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া সদ্য প্রকাশিত নথিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের সঙ্গে এপস্টেইনের ইমেইল যোগাযোগের কথাও রয়েছে। ২০০৯ সালের একটি ইমেইলে ফার্গুসন তাকে ‘বিশেষ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন এবং নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। এসব ইমেইলেও কোনো অপরাধমূলক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মার্কিন বিচার বিভাগ শুক্রবার তিন মিলিয়নের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে, যার মধ্যে দুই হাজারের বেশি ভিডিও ও প্রায় এক লাখ আশি হাজার ছবি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইনের আওতায় নির্ধারিত সময়সীমা শেষে এসব নথি প্রকাশ করা হয়। তবে অধিকাংশ নথিই ব্যাপকভাবে সম্পাদিত বা কালো করে দেওয়া।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন