রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

এপস্টেইন সম্পর্কিত লাখ লাখ নথি ফাঁস, ট্রাম্পের নাম এসেছে বহুবার

রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যৌন অপরাধী এপস্টেইন এর সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ত্রিশ লাখ পাতা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশ করা নথিপত্রগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে শত শত বার। খবর বিবিসি বাংলার।

সব নথিপত্র প্রকাশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত আইনের সময়সীমা উত্তীর্ণ হবার ছয় সপ্তাহ পরে এসে এগুলো প্রকাশ করা হলো।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেছেন, ‘এগুলো আজ প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ ও বিস্তারিতভাবে নথি খুঁজে বের করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে আইন মেনে চলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এগুলোর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।’

এই নথিগুলোর মধ্যে আছে জেফরি এপস্টেইনের কারাগারের থাকার সময়ের বিস্তারিত তথ্য যার মধ্যে তার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্ট ও জেলে থাকার সময়ে মৃত্যুর তথ্য আছে।

এছাড়া এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের নথিও আছে এর মধ্যে। ম্যাক্সওয়েলকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে এপস্টেইনকে সাহায্য করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

প্রকাশিত নথিপত্রের মধ্যে এপস্টেইন ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আদান-প্রদান করা ই-মেইলও রয়েছে।

ট্রাম্পের নাম এসেছে শত শত বার

নতুন প্রকাশ করা নথিগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েক শত বার। ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইেনর বন্ধুত্ব ছিল। তবে তিনি বলেছেন সেটি চুকে গেছে বহু বছর আগেই এবং তার যৌন অপরাধ বিষয়েও তার কিছু জানা ছিলো না বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এফবিআই গত বছর তৈরি করেছিল এমন একটি তালিকাও আছে। এতে ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের কলসেন্টারে কর দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল সেগুলোও রাখা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই কোনো যাচাই না করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা এবং এর পক্ষে কোনো প্রমাণ ছিল না।

এই তালিকায় ট্রাম্প, এপস্টেইন এবং আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অনেক অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করে আসছেন এবং এপস্টেইনের অপরাধের কোনো ভুক্তভোগীও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ করেননি।

সর্বশেষ অভিযোগগুলো সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগ নতুন নথির সঙ্গে প্রকাশিত এক বিবৃতির একটি অংশের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিছু নথিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ রয়েছে। এগুলো ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এফবিআইয়ের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।’

এতে আরও বলা হয়, ‘স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং মিথ্যা। যদি এগুলোর সামান্য বিশ্বাসযোগ্যতাও থাকত, তাহলে সেগুলো অনেক আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।’

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন