বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

আণবিক ও জিনগত প্রযুক্তিতে ইসলামি বিশ্বের শীর্ষে ইরান

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ওয়েব অব সায়েন্সের সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে আণবিক ও জিনগত প্রযুক্তিতে ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে ইরান।

আইআরএনএ-র তথ্যমতে, বিশেষ করে ট্রান্সফেকশন প্রযুক্তিতে ১,০৬৭টি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে ইরান বিশ্বে ১৪তম এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে ইরানের পরেই রয়েছে তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব এবং মালয়েশিয়া।

জিন থেরাপির ক্ষেত্রেও ইরানের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। দেশটি বৈশ্বিকভাবে ১৫তম এবং অঞ্চলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। পাশাপাশি CRISPR প্রযুক্তিতে ৫৮৭টি এবং RNA ইন্টারফেরেন্স প্রযুক্তিতে ৩৩৮টি গবেষণাপত্র নিয়ে দেশটি ইসলামি বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তবে TALEN এবং জিঙ্ক ফিঙ্গার নিউক্লিয়েজ (ZFN) প্রযুক্তিতে বৈশ্বিকভাবে ১৭ ও ১৮তম অবস্থানে থাকলেও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানের অবস্থান দ্বিতীয়, যেখানে পাকিস্তান প্রথম স্থান অধিকার করেছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম আধুনিক শাখা স্টেম সেল ও সেল থেরাপিতেও ইরান অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। গত এক বছরে বাজারে সেল থেরাপি পণ্যের সংখ্যা একটি থেকে পাঁচে উন্নীত হওয়ায় বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে দেশটি ১২তম থেকে ৮ম স্থানে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্সির কর্মকর্তা মোস্তাফা কানেয়ি তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাদের লক্ষ্য বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে স্থান করে নেওয়া এবং দেশের রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর করা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ২০টি প্রযুক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA) রোগের ওষুধ এবং ক্যানসার শনাক্তকরণ কিট তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে, যা প্রায় ৪ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

এছাড়া ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ঔষধি উদ্ভিদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং রেডিওলজি ও প্যাথলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে দেশটি, যাতে চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে নির্ভুল সেবা নিশ্চিত করা যায়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন