বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

শি’র সঙ্গে ফোনালাপ ‘চমৎকার’ ছিল: ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘চমৎকার’ ফোনালাপ হয়েছে। বুধবারের (৪ ফেব্রুয়ারি) এ ফোনালাপে দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, তাইওয়ান, ইরান এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন জিনপিং। পুতিনের সঙ্গে ওই আলোচনায় শি বলেন, অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘সবকিছুই খুব ইতিবাচক।’

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এবং প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক—দুটিই অত্যন্ত শক্তিশালী ও উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের চীন সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যু—বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও—শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা ট্রাম্প বারবার তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্প জানান, আলোচনায় ইরানের পরিস্থিতিও উঠে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে বিক্ষোভের পর কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বিবৃতিতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়, দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে তাদের সরাসরি বৈঠকও হয়েছিল।

চীনের বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে এগোলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মতপার্থক্য সামাল দেওয়া সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান পুনঃএকত্রীকরণ বেইজিংয়ের একটি মূল লক্ষ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

শি বলেন, ‘তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় চীন অটল, এবং তাইওয়ানকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে কখনোই দেওয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন দেয়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় এবং দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘চীন চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি ১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টনে নিতে সম্মত হয়েছে, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য ইতিবাচক খবর। পরের মৌসুমে ২ কোটি ৫০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীন।’

তবে চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে সয়াবিন কেনার বিষয়ে কোনো সমঝোতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন