শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

নথিপত্র ফাঁস: টালমাটাল ব্রিটিশ প্রশাসন

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

জেফরি এপস্টেইন ও পিটার ম্যান্ডেলসনের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নতুন নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পর তীব্র রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে ব্রিটিশ সরকার।

প্রভাবশালী লেবার পার্টি নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন এই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্বীকার করেছেন যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময় তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথা জানতেন।

তবে স্টারমারের দাবি, ম্যান্ডেলসন এই সম্পর্কের গভীরতা ও অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত ফাইলগুলো থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালে নাবালিকা নির্যাতনে এপস্টেইনের সাজা হওয়ার পরেও ম্যান্ডেলসন তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। এমনকি ম্যান্ডেলসন যখন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সচিব ছিলেন, তখন তিনি এপস্টেইনকে বাজার-সংবেদনশীল গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফাঁস হওয়া ইমেইলে দেখা গেছে, ২০১০ সালে ইউরোপীয় ব্যাংকের ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর বেইল-আউট এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের পদত্যাগের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য আগাম জানিয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন। এছাড়া ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, ম্যান্ডেলসন ও তার সঙ্গীর অ্যাকাউন্টে এপস্টেইনের পক্ষ থেকে বড় অংকের অর্থ লেনদেনের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পুলিশ ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ‘সরকারি পদে থেকে অসদাচরণ’-এর অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইতিমধ্যে এই নিয়োগের জন্য ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় ম্যান্ডেলসন তাকে ও তার টিমকে প্রতারিত করেছেন। তিনি সিভিল সার্ভিসকে ম্যান্ডেলসনের সব সরকারি কার্যক্রম এবং এপস্টাইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে স্টারমারের এই ক্ষমা প্রার্থনা ও ব্যাখ্যায় শান্ত হননি বিরোধীরা। কনজারভেটিভ পার্টির আইনপ্রণেতারা একে প্রধানমন্ত্রীর ‘বিবেচনাবোধের চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তাদের মতে, ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত অতীত জানা সত্ত্বেও তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর পদকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কোনো কোনো এমপি স্টারমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। এই নথিপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে এবং লেবার সরকারের নৈতিক অবস্থান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন