বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

১০ লাখ বছরের পুরানো জীবাশ্ম মিলল গুহায়

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

বিজ্ঞানীদের সামনে ১০ লাখ বছর আগের প্রাচীন বনের এক ঝলক দেখার সুযোগ করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের এক গুহায় আবিষ্কৃত বিশাল জীবাশ্ম ভাণ্ডার। ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া সেই খণ্ডের গল্প উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

আমেরিকান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ম্যাগাজিন পপুলার মেকানিক্স প্রতিবেদনে লিখেছে, এসব আবিষ্কারের মধ্যে আছে ১২ প্রজাতির প্রাচীন পাখি এবং চার প্রজাতির ব্যাঙের জীবাশ্ম, যার মধ্যে পাখির বেশ কয়েকটি প্রজাতি আগে কখনোই দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে এসব জীবাশ্ম এমন এক প্রাচীন বিশ্বের ছবি তুলে ধরেছে, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় একেবারে আলাদা।

অস্ট্রেলিয়া লাগোয়া দ্বীপটিতে আধুনিক মানুষের আগমন ঘটেছে প্রায় ৭৫০ বছর আগে। তারও আগে সেখানকার প্রাণিরা কীভাবে বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বৈজ্ঞানিক তথ্যের বড় এক শূন্যস্থান পূরণ করেছে এ আবিষ্কার।

এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আলচেরিঙ্গা: অ্যান অস্ট্রেলিয়ান জার্নাল অফ প্যালিওন্টোলজি’তে।

এক বিবৃতিতে এ গবেষণার প্রধান লেখক ও ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ট্রেভর ওয়ার্থি বলেছেন, ‘গুহাটি নিউজিল্যান্ডের এমন এক ধরনের পাখির জগৎ, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা আগে জানতাম না। ১০ লাখ বছর আগে মানুষ যখন নিউজিল্যান্ডে আসে তখন তারা যে ধরনের পাখি দেখেছিল এ প্রাচীন পাখিরা ছিল তাদের থেকেও একেবারে আলাদা।’

তিনি আরো বলেন, এ বিস্ময়কর আবিষ্কার আমাদের ইঙ্গিত দেয়, নিউজিল্যান্ডের প্রাচীন বিভিন্ন বনে একসময় এমন অনেক বৈচিত্র্যময় পাখির বাস ছিল যারা পরবর্তী ১০ লাখ বছর আর টিকে থাকতে পারেনি।’

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের দুটি স্তরের মাঝখানে এসব জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছে গবেষক দলটি। এ স্তর দুটি ভিন্ন ধরনের বড় আকারের অগ্নুৎপাত থেকে তৈরি হয়েছিল। যার প্রথমটি ঘটেছিল ১৫ দশমিক ৫ লাখ বছর আগে এবং দ্বিতীয়টি ১০ লাখ বছর আগে। এসব জীবাশ্মের মধ্যে থাকা অনেক প্রজাতিই নিউজিল্যান্ডে মানুষের পা রাখার আগেই বিলুপ্ত হয়েছিল।

এ গবেষণার সহ-লেখক ও ক্যান্টারবেরি মিউজিয়ামের কিউরেটর পল স্কোফিল্ড বলেছেন, তাদের অনুমান ওই ১০ লাখ বছরে দ্বীপটির প্রায় ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এ ব্যাপক বিলুপ্তির কারণ হিসেবে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন ও ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতকে দায়ী করেছেন তারা।

ওয়ার্থি বলেছেন, ‘কয়েক দশক ধরে নিউজিল্যান্ডের পাখিদের বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনাকে ৭৫০ বছর আগে মানুষের আগমনের প্রেক্ষাপটেই দেখা হত। তবে এ গবেষণায় প্রমাণ মেলে, অতি আগ্নেয়গিরি ও নাটকীয় জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ১০ লাখ বছর আগেই বন্যপ্রাণীদের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করে দিচ্ছিল।’

এসব আবিষ্কারের মধ্যে বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত হয়েছেন নতুন প্রজাতির এক তোতা পাখির আবিষ্কার নিয়ে, যা নিউ জিল্যান্ডের ডানাভারী পাখি ‘কাকাপো’র এক প্রাচীন আত্মীয়।

গবেষকদের ধারণা, আধুনিক কাকাপো উড়তে না পারলেও এদের এ পূর্বপুরুষ হয়ত উড়ত। জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ প্রাচীন পাখিটির পা বর্তমানের কাকাপোর চেয়ে দুর্বল। যার মানে আধুনিক কাকাপো যেমন গাছে চড়তে খুব পটু এ প্রাচীন পাখিটি সম্ভবত তেমন ছিল না। তবে এ পাখি আসলেই উড়তে পারত কি না তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তারা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন