যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইয়েমেনি শরণার্থীদের জন্য থাকা সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা বা ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইয়েমেনিরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য এখন নিরাপদ। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক হাজারেরও বেশি ইয়েমেনি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন, অন্যথায় তাদের গ্রেফতার ও বিতাড়নের মুখোমুখি হতে হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর তারা মনে করছেন যে দেশটি আর টিপিএস-এর আইনি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে না। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইয়েমেনিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে দেওয়া এখন জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিটি ইয়েমেনের প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র এই দেশটিতে এখনো যুদ্ধ ও সংঘর্ষ চলছে এবং খোদ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের নাগরিকদের ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ ও অপহরণের ঝুঁকির কথা বলে সতর্কতা জারি করে রেখেছে।
পবিত্র রমজানের কাছাকাছি সময়ে এমন কঠোর পদক্ষেপের ফলে প্রায় ১,৪০০ ইয়েমেনি নাগরিক সংকটে পড়লেন, যারা মূলত ২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত নিজ দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রশাসন জানিয়েছে, যারা নিজ উদ্যোগে বা ‘স্বেচ্ছায়’ দেশত্যাগ করবে, তাদের জন্য একটি করে প্রশংসামূলক বিমান টিকিট এবং ২,৬০০ ডলারের ‘এক্সিট বোনাস’ বা বিদায়ী ভাতা প্রদান করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ইয়েমেন ছাড়াও গত এক বছরে ভেনেজুয়েলা, হাইতি, সোমালিয়া, ইউক্রেন এবং আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য থাকা এই সুরক্ষা মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১৯টি মুসলিম প্রধান ও আফ্রিকান দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং আরও ২৯টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন