পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, আদালত নির্দেশ দিলে কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ক্যাপিটাল টক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাওয়ালপিন্ডির সেন্ট্রাল জেলে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড দুই দফা ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। চিকিৎসা নিয়ে পিটিআই সন্তুষ্ট না হলে তারা যেন সুপ্রিম কোর্টে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর একদিন আগে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেস (পিআইএমএস)- এ ফলোআপ ভিজিটে ইমরান খান দ্বিতীয়বারের মতো চোখে ইনজেকশন নেন। গত জানুয়ারির শেষ দিকে তার ডান চোখে প্রথম ইনজেকশন দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা মোট তিনটি ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তৃতীয় ইনজেকশনটি আগামী ২৩ মার্চ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইমরান খান ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও)’ নামে গুরুতর চোখের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তার আইনজীবী সালমান সাফদার সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তার ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ করেছেন।
টক শোতে রানা সানাউল্লাহ বলেন, জেলবিধি লঙ্ঘনের কারণে পিটিআই নেতৃত্ব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইমরান খানের সাক্ষাৎ সীমিত করার পর থেকেই তার অসুস্থতা নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়। পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে জেলে তার বোনের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবার বা দলের সন্তুষ্টি আলাদা বিষয়; আইনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। পিএমএল-এন নেতা দাবি করেন, পিটিআই নেতৃত্ব ইমরান খানের অসুস্থতাকে ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
রানা সানাউল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘চিকিৎসকদের যদি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং পরে তারা কোনো অনুপযুক্ত মন্তব্য করেন, তাহলে দায় নেবে কে?’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিএমএল-এনের প্রধান নওয়াজ শরিফ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আদালতের অনুমতি ও সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন