রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ, কী প্রভাব পড়তে পারে

রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইরানের আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ এই হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেন বিশ্লেষকেরা।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা জাহাজগুলো বারবার ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) একটি বার্তা পাচ্ছে। বার্তায় বলা হচ্ছে, কৌশলগত এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌ মিশনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা শনিবার রয়টার্সকে বলেন, জাহাজগুলো আইআরজিসির কাছ থেকে ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি (ভিএইচএফ) বেতারতরঙ্গের মাধ্যমে পাঠানো বার্তা পাচ্ছে। বার্তায় বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

তবে এই কর্মকর্তা বলেন, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নির্দেশের কথা নিশ্চিত করেনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান বহু বছর ধরে এই সরু জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।

শনিবার সকালে ইরানজুড়ে তীব্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এই হামলায় গতকাল সকালেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরান। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলো।

হরমুজ প্রণালি কোথায়

আল–জাজিরার এক্সপ্লেইনারে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশপথ। এর এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিকভাবে বলতে গেলে, প্রণালিটি পারস্য উপসাগরকে সরাসরি ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এবং সেই পথ ধরে জাহাজগুলো আরব সাগরে তথা ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন বলছে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ, প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে যায়।

এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন এই প্রণালিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ’ বলে বর্ণনা করেছে।

তেলের দামের ওপর প্রভাব

কয়েক দিন ধরেই তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। রোববার (১ মার্চ) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস আগেই সতর্ক করে বলেছিল, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।

অন্যদিকে ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সরবরাহ পথ বন্ধ হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে উঠে যেতে পারে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন