মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌবাহিনী ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় অভিযান চালানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতের ঝুঁকি আগেই অনুমান করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগাম আঘাত না হানলে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ইউরোপ ও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী ছিল এবং অচিরেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছিল—যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
সপ্তাহান্তে শুরু হওয়া বিমান অভিযানের পর সরকারের প্রথম ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান বিমানবাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, এটি এক রাতের অভিযান নয়। তাদের মতে, সেন্টকমকে যে লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি হবে, এবং অতিরিক্ত প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপের পর ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন স্বার্থে হামলার সম্ভাবনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আগাম আঘাতকে তারা কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হচ্ছে না।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এসব আঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সংঘাত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক মাত্রা পেয়েছে। লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারও অস্থির হয়ে উঠেছে। জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম ওঠানামা করছে। বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে, বহু যাত্রী আটকা পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে এবং বেসামরিক মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন, এই সামরিক অভিযানের পরবর্তী কৌশল কী হবে এবং সংঘাতের সমাপ্তি কিভাবে ঘটানো হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সুস্পষ্ট কূটনৈতিক রূপরেখা ছাড়া সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বহুগুণে বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চল অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সামরিক লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা সত্ত্বেও যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং শেষ পর্যন্ত এর রাজনৈতিক ফলাফল কী দাঁড়াবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন