শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ইরান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলার আশঙ্কা

শুক্রবার, মার্চ ৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভাব্য সাইবার হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করে বিভিন্ন লেনদেন ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাইবার হামলার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সেবা খাত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অংশ। অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা, লেনদেন নিষ্পত্তি, শেয়ারবাজারের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এটি সাইবার হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

শিল্পসংগঠন এসআইএফএমএ–এর সাইবার ও প্রযুক্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টড ক্লেসম্যান বলেন, আর্থিক খাত সব সময়ই সতর্ক থাকে। তবে বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়লে নিরাপত্তা প্রস্তুতিও আরও জোরদার করা হয়। বড় ধরনের সাইবার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত মহড়াও চালানো হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত অনলাইন গোষ্ঠীগুলো তুলনামূলক কম মাত্রার সাইবার হামলা চালাতে পারে। বিশেষ করে ‘বিতরণকৃত সেবা অস্বীকৃতি’ বা ডিডিওএস ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক নির্দিষ্ট সার্ভারে পাঠিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়।

ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মর্নিংস্টার ডিবিআরএস সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের উচ্চ মূল্য এবং ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ বৈশ্বিক ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক লাজার্ডের ভূরাজনৈতিক পরামর্শক দল জানিয়েছে, অতীতে ইরান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাইবার সক্ষমতা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে।

শিল্পভিত্তিক তথ্য বিনিময় সংস্থা এফএস-আইএসএসি এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে সাইবার হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল আর্থিক খাত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় অনলাইন হামলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার পরিসরও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাই প্রযুক্তিগত সুরক্ষা জোরদার, বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন আর্থিক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন