ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ে আল্লাহর রহমতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তাবায়নের কাজ শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এর জন্য আমি আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাচ্ছি।’
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেশে আর্থিক বৈষম্য কমানো হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আর সেই ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই সরকার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তারেক রহমান আরো জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চার কোটি পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে। পাশাপাশি আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে।
এ ছাড়া আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশের খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা বা সম্মানি প্রদানের একটি পাইলট কর্মসূচিও শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘নাগরিকরা দুর্বল থাকলে রাষ্ট্র কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না। তাই ধীরে ধীরে দেশের মানুষকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে। তবে ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, উদারতা ও দায়িত্ববোধের মতো মানবিক গুণাবলি ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণতা পায় না। এসব মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।’



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন