রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের অভিযোগে সিভিশনের নামে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

সিএন প্রতিবেদন: চট্টগ্রামে ‘সিভিশন’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস এ গ্রুপ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পোর্টালটি এস এ গ্রুপের কাছে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বিজ্ঞাপন দাবি করে এবং বিজ্ঞাপনের নামে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সেই সংবাদটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বুস্টিং করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়, যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এস এ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এস এ ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি বাদী হয়ে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানহানি মামলা দায়ের করে। মামলাটি (সি আর–১৫১/২০২৬) ১৬ মার্চ দায়ের করা হয়। আদালত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির জবানবন্দী গ্রহণের পর মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, অনিবন্ধিত সিভিশন নামীয় এ ধরনের অনলাইন পোর্টালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন, যেগুলো বর্তমানে বিচারাধীন।

অন্যদিকে, একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এম হোসেন অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হোসেন ও তাঁর ভাই মো. নুরুল আলমের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে এস এ গ্রুপ পৃথক একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

মামলায় বলা হয়েছে, একটি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বে একটি সমঝোতা ও আপস মীমাংসার চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পূর্ববর্তী সব চেক ও রশিদ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতারণামূলকভাবে সেই চেকগুলো ফেরত না দিয়ে প্রায় এক যুগ আগের কিছু পুরোনো চেক ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও অর্থ দাবির চেষ্টা করেন। যদিও উক্ত চেকগুলোর বিপরীতে সমুদয় অর্থ অনেক আগেই পরিশোধ করা হয়েছে, যা ব্যাংক স্টেটমেন্টে প্রতীয়মান বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে, মিথ্যা মামলায় এস এ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে অযথা হয়রানি ও হেনস্তার চেষ্টা করা হয়। মামলাগুলোতে কোনো ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও আদালতের প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে ‘সিভিশন’ নামীয় পোর্টালে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ প্রেক্ষিতে এম হোসেন অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হোসেন ও মো. নুরুল আলমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করলে আদালত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, প্রতারণামূলকভাবে পুরোনো চেক ব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে মানহানি সংঘটিত হলে তা দণ্ডবিধি অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন