যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গুরুতর ও স্পর্শকাতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও অভিযোগের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে সংস্থাটি।
ডিএইচএস জানায়, অবৈধ অভিবাসী ও জননিরাপত্তা–ঝুঁকি বিবেচনায় যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ধরতেই এই অভিযান। সংস্থাটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৬ হাজারের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
ডিএইচএসের ডেপুটি সেক্রেটারি লরেন বেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা শিশুদের ক্ষতি করে বা নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায়, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো জায়গা নেই।’ তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্যানসাসের ফোর্ট স্কট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কাজী আবু সাঈদকে। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে অনৈতিক কাজে ব্যবহার ও অবৈধ জুয়া পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনার র্যালি থেকে শাহেদ হাসান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গোপনে অস্ত্র বহন ও চুরির অভিযোগে।
নিউইয়র্কের বাফেলো ও কুইন্স থেকে যৌন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন মোহাম্মদ আহমেদ ও এমডি হোসেন নামে আরো দুই জন। মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে ভার্জিনিয়া থেকে মাহতাবউদ্দিন আহমেদ এবং টেক্সাস থেকে নেওয়াজ খানকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া চুরির অভিযোগে ফ্লোরিডার প্যানসাকোলা থেকে শাহরিয়ার আবির, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে মিশিগানের মাউন্ট ক্লেমেন্স থেকে আলমগীর চৌধুরী এবং প্রতারণার অভিযোগে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে কনক পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার মানাসাসে অস্ত্র ও সিন্থেটিক মাদক রাখার অভিযোগে আটক হন ইশতিয়াক রাফি।
ডিএইচএস জানিয়েছে, সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন, মাদক পাচার ও জালিয়াতিসহ গুরুতর অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন