ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তান দুই পক্ষের জন্য একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করেন। তিনি ট্রাম্পের মতো ভাষায় লেখেন, কূটনীতি ‘দৃঢ়ভাবে, শক্তিশালীভাবে এবং জোরালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে’। তিনি ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। পোস্টে ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের ট্যাগও করেন তিনি।
পোস্ট দেখে মনে হচ্ছিল এটি একটি শেষ মুহূর্তের করা শেষ চেষ্টা। কিন্তু আসল ঘটনা ছিল ভিন্ন। নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, শাহবাজ শরিফ পোস্ট করার আগেই হোয়াইট হাউস বিবৃতিটি দেখেছিল এবং অনুমোদন দিয়েছিল। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সামাজিক মাধ্যমে যা দেখা যাচ্ছিল ভেতরে ভেতরে তার চেয়েও অনেক বেশি সক্রিয় ছিল।
এই ঘটনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে। ট্রাম্প একদিকে ইরানের সভ্যতা মুছে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যেই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছিল।
শরিফের পোস্টের শিরোনামে লেখা ছিল ‘ড্রাফট — এক্স-এ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা’। এটি দেখে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে অনুমান করেছিলেন, বিবৃতিটি আসলে ট্রাম্প নিজেই লিখেছেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। পাকিস্তান দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কাজে দিয়েছে, অন্তত আপাতত। ট্রাম্প কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘোষণা করেন, তিনি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন