বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

যে কারণে ভেঙে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সপ্তাহান্তের বৈঠকে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধই প্রধান অচলাবস্থা হিসেবে সামনে এসেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছরের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিলেও তেহরান এতে সম্মত নয়।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় দুই দেশ প্রস্তাব আদান-প্রদান করলেও চুক্তির মেয়াদ নিয়ে বড় ধরনের ব্যবধান থেকেই যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ২০ বছরের শর্তে অনড় থাকায় ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। যদিও বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার মনে করেন, শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ বছরের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সংলাপ চলছে, উত্তেজনাও বাড়ছে

এই বৈঠকটি এক দশকের বেশি সময় পর দুই দেশের প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং ইরানের বিপ্লবের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও আলোচনা চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সংলাপ এখনো চলমান।

ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অবরোধ শুরু করেছে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। দ্বিতীয় দফা বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।

আলোচনার ভেতরের চিত্র

ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলে এই আলোচনা। পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জেনেভায় পূর্ববর্তী বৈঠকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা ভঙ্গ করা হয়েছে।

প্রায় চুক্তির কাছাকাছি গিয়েও ভাঙন

আলোচনায় প্রায় ৮০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির পরিধি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে মতবিরোধে শেষ পর্যন্ত অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে বিরতির ব্যবস্থা করেন।

মূল বিরোধ কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য—ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ না দেওয়া। অন্যদিকে ইরানের প্রধান উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থার অভাব। এই দ্বিমুখী সন্দেহই আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামনে কী

এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। হোয়াইট হাউসও বলেছে, তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

সব মিলিয়ে, অচলাবস্থা সত্ত্বেও কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন