বুধবার, ২০ মে ২০২৬

শিরোনাম

ইরানে বড় সামরিক অভিযান পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কারণ জানালেন ট্রাম্প

বুধবার, মে ২০, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না, কারণ দেশটি ‘অত্যন্ত উগ্রপন্থি’ এবং তারা এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। খবর এনডিটিভির।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি যুদ্ধ করতে হবে না, কিন্তু আমাদের হয়তো তাদের ওপর আরেকটি বড় আঘাত দিতে হতে পারে। বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই, তবে খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’

হামলার সিদ্ধান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে সরে আসা

ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।’

তবে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে তিনি সেই হামলা স্থগিত করেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তিনি আপাতত আক্রমণ থামিয়েছেন, তবে এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়।

নতুন সময়সীমার হুঁশিয়ারি

রয়টার্স ও অ্যাক্সিওস–এর সাংবাদিক বারাক রাভিদের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প ইরানকে একটি সীমিত সময় দিয়েছেন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘২–৩ দিনের মধ্যে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই’ নতুন হামলার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে’ এবং ইরান দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

শান্তি আলোচনার মধ্যেও উত্তেজনা

সোমবার ট্রাম্প জানান, চলমান ‘গুরুতর আলোচনা’ বিবেচনায় মঙ্গলবারের জন্য নির্ধারিত একটি হামলা তিনি স্থগিত করেছেন।

তবে একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো ‘গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে’ তাৎক্ষণিকভাবে বড় আকারের হামলা চালানো যায়।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কৌশলগত চাপ

২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো মাত্র একটি আলোচনার দফা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

এদিকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে—ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখন চরম অস্থির অবস্থায় রয়েছে, যেখানে কূটনীতি ও সামরিক উত্তেজনা একইসঙ্গে চলমান।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন