শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

বিজয় দিবসেই মারা যান বিজয়ের কারিগর

সোমবার, ডিসেম্বর ২০, ২০২১

প্রিন্ট করুন
Untitled design 26

অ আ আবীর আকাশ: ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ কর্তৃক সরকারী ভাবে আয়োজন করা হয়েছিলো বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান। সেখানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিলো ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম তোফাজ্জেল হুসেইনের। তবে সেই সুযোগ হয় নি তার। সেদিন ভোরেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান একাত্তরে বাঙালি বিজয় গড়ার লাখো সৈনিকের একজন।

ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলাস্থ গজারিয়া গ্রামে ১৯৩৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন কে এম তোফাজ্জল হুসেইন। তিনি একজন ভাষাসৈনিক এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয় ( বিজি প্রেস)এর অধীনে ‘শ্রম-কল্যাণ অফিসার্থ (১ম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার) পদে কর্মরত ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয়ের সিবিএয়ের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। চাকুরীর পাশাপাশি তিনি লেখালেখি করতেন। দৈনিক বাংলা এবং ইত্তেফাকে তার লেখা কলাম এবং চিঠিপত্র বিভাগে নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হতো। ১৯৫২ সালে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডিবরদী গ্রামে পাক হানাদাররা আগুন জ্বালালে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করলে তিনি জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়ে উর্দু ভাষায় পাকবাহিনীদের সাথে তুমুল বাক-বিতণ্ডা করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে আক্রমণ করতে নিষেধ করেন। তার কথায় পাক বাহিনী ভড়কে যায় এবং উক্ত গ্রাম থেকে চলে যায়।

(তথ্যসূত্রঃ সোলায়মান আলী মোল্লার লিখিত এবং ড. তপন বাগচী সম্পাদিত ‘ফরিদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস্থ গ্রন্থ)।
তোফাজ্জেল হুসেইন পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং আহত হন। দেশ স্বাধীন হবার পরে তিনি সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করে আপর একটি চাকরি নেন। ২০০১ সালে তিনি চাকুরী জীবন সমাপ্ত করে নিজ জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার গজারিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। এলাকায় বসবাসকালে তিনি রাজনীতির সাথে সক্রিয় হয়ে নগরকান্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এবং উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এইদিকে দেশ গড়ার দেশের এই সূর্যসন্তানের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকি পালিত হয়েছে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর। এদিন মরহুম কে এম তোফাজ্জল হুসেইনের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন তার পুত্র লেখক ও সাংবাদিক জায়েদ হোসাইন লাকী এবং আরেক পুত্র খালিদ হোসাইন বাকী।  এসময় তাদের পিতার আত্মার শান্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।

আকাশ/ আইআই/ সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন