বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নির্দেশে ভারতে পালানোর আগেই ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান চট্টগ্রামের এসপি মো. মাসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
পুলিশের দীর্ঘ সময়ের নজরদারির প্রসঙ্গ তুলে ধরে এসপি বলেন, দেড় মাস আগে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনদের পুরো নেটওয়ার্কের পেছনে লেগে থাকে পুলিশ।
পুলিশের মনোভাব বুঝতে পেরে ইমনদের গা-ঢাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন বড় সাজ্জাদ। ডেভিড ইমনকে ভারতে পালিয়ে যাবার পরামর্শও দেয়া হয়। এরই মধ্যে পুলিশ বড় সাজ্জাদ বাহিনীর যোগাযোগ নেটওয়ার্কে ঢুকে যায়। ভারতে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে রওনা দেওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাকে অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে যশোরে গিয়ে ধরা পড়েন ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগী। বুধবার রাতেই যশোরে গ্রেফতার ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে চট্টগ্রামে আনা হয় বলেও যোগ করেন তিনি।
এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, বিদেশে পলাতক গ্যাং লিডার সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালাতে ইমনের পরিকল্পনা আমরা জেনে যাই। এরপর পুলিশের কয়েকটি টিমকে সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাবার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় তাকে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু সে গাড়ি বদল করে ঢাকায় ঢুকে যেতে সক্ষম হয়। তখন খবর আসে সে খুলনার দিকে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় আমরা চেকপোস্ট বসাই। ব্যাড লাক। সেখানে আমরা তাকে ধরতে পারিনি।
এরপর সে রুট চেঞ্জ করে গোপালগঞ্জ হয়ে নড়াইলে পৌঁছে। তখন বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা। নড়াইলের এসপি চেষ্টা করেন। কিন্তু সে যশোরে চলে যেতে সক্ষম হয়। যশোরের এসপিকে আমরা সব তথ্য দিই। তিনি ডিবিকে দিয়ে চেকপোস্ট বসান। সেই চেকপোস্টে ইমনসহ চারজন ধরা পড়েন উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশে অবস্থানের তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে দাবি করে এসপি বলেন, কখনও দুবাই কখনও ভারতে অবস্থানের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয় ডেভিড ইমন। এভাবে দেড় বছর ধরে পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিলেন। কিন্তু ইমন বাংলাদেশেই ছিলেন।
গ্রেফতারের আগে ভারতে পালাতে নানা আয়োজন সম্পন্ন করে। সীমান্ত পার করার জন্য মানুষও ঠিক। বুধবার ভোর ৬টায় যশোরের সীমান্ত দিয়ে ইমন ও তার তিন সহযোগীর ভারতে ঢোকার কথা ছিল। তার আগেই গ্রেফতার হয়।
এদিকে ডেভিড ইমনের কাছে একটি ভারতীয় আধার কার্ডও পাওয়া গেছে বলে জানান এসপি মাসুদ আলম। কার্ডে লেখা আজাহার খান। সেই কার্ডে ইমনের দীর্ঘ গোঁফের ছবিও আছে। আধার কার্ড হলো ভারতের বাসিন্দাদের জন্য সরকারের দেওয়া ১২ ডিজিটের কোড নম্বরসহ একটি বিশেষ পরিচয়পত্র। এসপির দাবি ইমন ভারতে গিয়ে সেটি ব্যবহার করার কথা ছিল।
তবে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আধার কার্ডটি সঠিক না ভুয়া তা যাচাই করা যায়নি। হতে পারে তা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। এদিকে ইমনের দেয়া তথ্যে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি এলজি ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে তার বাড়ি। থাকতেন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আতুরার ডিপো এলাকায়। তার বিরুদ্ধে নগরী ও জেলায় হত্যাসহ একাধিক মামলা আছে।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন