চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আনোয়ারা থানাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ এই আদেশ দেন। যদিও আদালতের নির্দেশের খবরটি বুধবার (৫ আগস্ট) জানাজানি হয়।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেল (৩৫) এবং তার দুই সহযোগী সাজ্জাদ হাসান (২৭) ও ওমর কাদের সুজাত (২৫)। তারা সবাই ওই একই এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বৈরাগ ইউনিয়নের মধ্যম গুয়াপঞ্চক এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের নির্মাণাধীন ভবনে নালায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে ওই নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৪ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
ভুক্তভোগী ওমর বলেন, গত ২৮ জুলাই তিনি পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে টাকা ধার করে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার গতিরোধ করেন। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে এবং পরে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজিম উদ্দীন বলেন, ইউপি সদস্যের অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণসহ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আনোয়ারা থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইলিয়াছ কাঞ্চন রুবেলের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, এখনও পর্যন্ত আদালত থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। কাগজ হাতে পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে আমি জেনেছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিধিমোতাবেক আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন