শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

গাজায় ধ্বংসস্তূপে তাবু টানিয়েই চলছে দন্তচিকিৎসা

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

গাজা সিটির তীব্র গরমে একটি গলির ছোট তাবুতেই নিজের পরবর্তী রোগীর অপেক্ষায় বসে থাকেন ৩১ বছর বয়সি দন্তচিকিৎসক ডা. রিজক সুফিয়ান আবু হালিমা। যুদ্ধের কারণে ভবন সংকটে আকাশচুম্বী ভাড়ার মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই এই তাবুটিকে বিকল্প চিকিৎসা কেন্দ্র বানিয়েছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।

২০২৩ সালে যুদ্ধের শুরুর দিকে উত্তর গাজার শেখ জায়েদ সিটিতে তার পুরোনো ‘স্মাইল ওয়ান’ ক্লিনিকটি বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর গত বছর মে মাসে আল-নাসর এলাকায় নতুন ক্লিনিক গড়লেও গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় সেটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটি ও উত্তর গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন সম্পূর্ণ বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার কারণে পুনর্নির্মাণ বন্ধ থাকায় অবশিষ্ট অল্প কিছু ভবনের দাম তাই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

যুদ্ধের আগে যে অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ছিল ৫০০ শেকেল বা ১৬৬ ডলার, বর্তমানে তার দাম প্রায় ১,০০০ ডলারে উঠেছে। রোগীদের ওপর এই বাড়তি খরচের বোঝা না চাপাতেই ডা. আবু হালিমা চরম গরম ও তাবুর প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাতলা ক্যানভাসের তাবুতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় তিনি নিয়মিত সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি একজন নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োজিত রেখেছেন। তবে বিধ্বস্ত অর্থনীতির কারণে গাজায় দন্তচিকিৎসা অনেক সাধারণ মানুষের কাছে এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

ওই ক্লিনিকে কর্মরত নার্স হেবা রিহান জানান, অর্থের অভাবে অনেকে ব্যয়বহুল ফিলিং করাতে না পেরে তীব্র ব্যথা সয়ে সস্তায় শেষ পর্যন্ত দাঁত তুলে ফেলতে বাধ্য হন, যা খুবই বেদনাদায়ক এক দৃশ্য।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন