মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীদের

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচ। ফিলিস্তিনের দখলকৃত এলাকায় অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার—এর প্রতিক্রিয়ায় তারা এই দাবি জানিয়েছেন।

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ব্রিটেন ইহুদিবিদ্বেষী সরকারের মতো আচরণ করছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন

নেতানিয়াহুর প্রতি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানান।

বেন-গভিরের দাবি, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ‘ব্রিটিশ দখলে থাকা আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড’। তিনি বলেন, ব্রিটেন শুধু দ্বীপগুলো দখল করেই রাখেনি, সেখানে তেল উত্তোলন করে আর্জেন্টিনার সম্পদও নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে এবং ব্রিটিশ ‘দখলদারত্ব’ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ফকল্যান্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ

দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ চলছে। তবে দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার বড় অংশই ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দাবি করেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হচ্ছে। দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দেন তিনি।

এদিকে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে তিনি ব্রিটেনকে সমর্থন নাও করতে পারেন।

ইসরাইল-যুক্তরাজ্য সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

ইসরাইলি মন্ত্রীদের এই বক্তব্যের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ব্রিটেনের নতুন নীতিকে। মঙ্গলবার ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। এর মধ্যে বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে আমরাও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ব্রিটিশ সরকারের এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনও তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে বলে জানা গেছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন