গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পেছনে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ জটিলতা এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক জ্যারেড কুশনার। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনে এক সংবাদ সম্মেলনে কুশনার বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করা সহজ হবে না। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতাকে তিনি ‘আমাদের কল্পনারও বাইরে’ বলে উল্লেখ করেন।
গাজায় মানবিক সংকট নিয়ে প্রশ্নের মুখে কুশনার বলেন, উপত্যকাটি ‘অনেক দিন ধরেই দুর্দশাগ্রস্ত একটি জায়গা’। তার এই মন্তব্যকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়কে খাটো করে দেখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন গাজা-সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ কাঠামো বা চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতৈক্য রয়েছে বলেও দাবি করেন।
কুশনার বলেন, ‘আমি মনে করি, গাজার চূড়ান্ত অবস্থান কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমরা ইসরাইলের সঙ্গে একমত।’
তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘তাদের নির্বাচন পরিস্থিতি বেশ অস্বাভাবিক, যা কিছু ক্ষেত্রে তাদের আচরণকে অযৌক্তিক করে তোলে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এসব বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
গাজায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন কুশনারের এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য সমালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন