বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি: প্রতিবেদন

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধ পরিচালনায় এ অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিরপেক্ষ বাজেট বিশ্লেষণ সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সিবিও জানিয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা বর্তমান অবস্থায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি ব্যয় হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে।

সিবিওর ধারণা, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি তাদের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি থাকতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই মূল্যায়ন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনের ব্যয়ের হিসাব এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া অনুমানের সঙ্গে প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিনেটে দেওয়া সাক্ষ্যে হেগসেথ যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছিলেন।

সিবিও জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বা ধ্বংস হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচই এই ব্যয়ের বড় অংশ। তবে এতে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাসদস্যদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা কিংবা ভবিষ্যতের ভেটেরান স্বাস্থ্যসেবা ও অক্ষমতা-সংক্রান্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

ব্রেন্ডন বয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে, সংঘাতটি মার্কিন করদাতাদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের বোঝা তৈরি করেছে এবং ব্যয় এখনও বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা বছরের পর বছর ধরে বলে আসছেন যে দেশের ভেতরে পরিবারগুলোর সহায়তায় অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু একটি বেপরোয়া যুদ্ধের জন্য তারা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার, এমনকি আরও বেশি অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন, যার মূল্য শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদেরই দিতে হচ্ছে।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এই নির্বাচনেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। তবে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

হোয়াইট হাউস গত জুনে যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট চেয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস এখনো তা অনুমোদন করেনি। সিবিওর মতে, ওই প্রস্তাবের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ-সংক্রান্ত ব্যয় হিসেবে ধরা ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার তাদের হিসাবের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদন তৈরির সময় সিবিওর তথ্য চাওয়ার জবাবে প্রতিরক্ষা বিভাগ কোনো মন্তব্য করেনি, যা স্বাভাবিক প্রথার ব্যতিক্রম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরকারি ডেটাবেস ও উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই হিসাবের ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের মজুতে কৌশলগত ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন