রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হামলা’ নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি নাশকতা, সাইবার হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের কোনো ন্যাটো দেশের ভূখণ্ডে হামলার ‘বাস্তব ঝুঁকি’ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। লিথুয়ানিয়াও একই ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন হামলা, তথ্যযুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টিকে এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি তীব্র হয়েছে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থাপনাগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ফিনল্যান্ডও সম্ভাব্য নাশকতা ও ড্রোন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে জার্মানি যুদ্ধ বা ব্যাপক হতাহতের পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। লিথুয়ানিয়া বড় ধরনের সংকটে জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ন্যাটো সদস্য না হয়েও সুইজারল্যান্ড নতুন নিরাপত্তা কৌশলে হাইব্রিড হুমকি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েছে।
ন্যাটো এখনো কোনো সদস্য দেশে রাশিয়ার সামরিক হামলা আসন্ন বলে ঘোষণা দেয়নি। তবে জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে ইউরোপীয় আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ এবং অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রতিরোধক্ষমতা ও জরুরি সেবা সচল রাখার প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন