শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

কুইন্সের বুকে লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ!

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ইফতেখার ইসলাম: জীবিকার তাড়নায় মানুষ প্রবাসে পাড়ি দেয়। সেখানকার পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে শত কষ্ট চেপে রীতিমতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চেষ্টা করে। মানুষ  এসব ব্যথা বেদনা ভুলে যায় যদি বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের স্মৃতি চিহ্ন দেখতে পায়। বেড়ে যায় উৎসাহ উদ্দীপনা। 

ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুইন্সে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’ নামে একটি সড়কের নামকরণ হওয়াকে কেন্দ্র করে বেশ উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশি প্রবাসিরা। প্রবাসি বাংলাদেশিরা বলছেন, বিদেশের বুকে বাংলাদেশের নাম মানে এক অফুরন্ত প্রাণশক্তির উৎস। 

জানা গেছে, বিপুল বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকায় হোমলন এভিনিউ ও হিলসাইড এভিনিউয়ের কর্ণারে এই সড়কের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ’। আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামকরণের সাইনবোর্ড উন্মোচন করা হবে মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। 

এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে এ নিয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়। লিটল বাংলাদেশ এভিনিউ- নামকরণের বিলটি উত্থাপন করেন নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট-২৪ এর কাউন্সিলম্যান জেমস এফ জিনারো। 

সিটি কাউন্সিলের এমন সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। একইসাথে তারা কাউন্সিলম্যান জেমস এফ জিনারোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আর বিদেশের মাটিতে স্বদেশে নামে সড়ক পেয়ে বেশ আনন্দিত জ্যামাইকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা। রোকনুজ্জামান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, দরিদ্রদের দায় থেকে মুক্তি পেতে ১০ বছর আগে এদেশে এসেছি। অনেকদিন নিজ দেশে ফেরা হয় নি। তবে প্রতি মূহুর্তে নিজের জন্মভূমিকে স্মরণ করি। এই এলাকায় বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি বসবাস করে। আর রাস্তাটির নাম বাংলাদেশের সাথে জড়িয়ে থাকা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি আমাদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। 

এই দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে বাংলাদেশের নামে সড়ক হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি জনগণের মধ্যেও এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। রুবিনা হক নামে এক শিক্ষিকা বলেন, এটা একটি ইতিবাচক দিক যে বিদেশের কোন সড়কের নাম বাংলাদেশের নামে হচ্ছে। যা আমাদের প্রবাসীদের ক্ষণে ক্ষণে নিজ দেশের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেবে। 

কাউন্সিলম্যান জেমস এফ জিনারো বলেন, এই এলাকায় বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের আগ্রহের জায়গা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি আশা করছি তারা এতে খুশি হবেন। 

তিনি আরো বলেন,প্রথমেই বাংলাদেশ বা দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে জ্যামাইকায় একটি রাস্তার নামকরণ করার দাবি ওঠে। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি পক্ষ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরোত্তমের নামে একটি রাস্তার নামকরণের দাবি তোলেন। 

পরে অপর একটি মহল ‘বাংলাদেশ’ নামে রাস্তার নামকরণের দাবি করেন; যাতে কোন রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টি না হয়। পরিশেষে ‘লিটন বাংলদেশ এভিনিউ’ নামকরণ চূড়ান্তকরণ করা হয়। 

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন