রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

স্বপ্নের দেশে ‘মৃত্যু ফাঁদ’, শঙ্কিত জনগণ

বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ইফতেখার ইসলাম : জ্ঞান-গবেষণা, শিক্ষা,প্রযুক্তি,জীবনযাত্রার মান— সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাসীর কাছে বেশ আগ্রহের একটি স্থান। সকলের মতো বাংলাদেশিদের জন্যও এই স্থানটি প্রায় স্বপ্নের মতো। কেউ বা ছুটে যান উচ্চ শিক্ষার আশায় আবার কেউবা এই বেচে নেন অবকাশ যাপনের স্থান হিসেবে। কেউ কেউ জীবিকা বা জীবনযাপনের উৎকৃষ্টতার জন্য এই স্থানটি পছন্দ তালিকার শীর্ষে রাখেন। তবে সম্প্রতি দেশটিতে বেড়ে যাওয়া মাত্রাতিরিক্ত অপরাধ শুধু দেশটির জনগণ নয় প্রভাব ফেলছে বিদেশিদের উপরও। আর এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কিত জীবনযাপন করছেন আমেরিকান জনসাধারণসহ সকলে।

জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের ২৪ মে পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালানোর অন্তত ২১২টি ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি দেশটির রাস্তাঘাট, সাবওয়ে, শপিংমল সব স্থানেই বেড়েছে অপরাধ। বন্দুক হামলা,ছিনতাই, মারধরের মতো বিষয়গুলো এখানে সাধারণ ঘটনার মতো হয়ে উঠেছে। আর এর থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরাও।

সম্প্রতি অলাভজনক বেসরকারি সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের (জিভিএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র হামলায় নিহতের হার সার্বিকভাবে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।বন্দুকধারীর নির্বিচার গুলিতে মানুষ হত্যার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় মাথাব্যথা।

জিভিএ জানিয়েছে, যেসব গুলিবর্ষণের ঘটনায় হামলাকারী ছাড়া চার বা ততোধিক ব্যক্তি আহত বা নিহত হয়, সেগুলোকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি রেল স্টেশনে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্ততন ১৩ জন আহত হন। এর পরে চলতি মাসের ১৪ মে নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের একটি সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ মে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৯ জন শিক্ষার্থী এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী বন্দুকধারী। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রে এটি সবচেয়ে বড় বন্দুক হামলার ঘটনা নয়। এর আগে ২০১২ সালে কানেকটিকাটে একটি স্কুলে হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ২০ শিশুসহ ২৬ জন নিহত হয়।

এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিছানায় শুইয়ে দিচ্ছেন, গল্প শোনাচ্ছেন, গান গাইছেন। তবে পরের দিন সন্তানদের স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার পর কিংবা তাদের নিয়ে জনপরিসরে যাওয়ার পর কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে অভিভাবকরা চিন্তিত।

এদিকে এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গান লবির (সাধারণ জনগণের কাছে বন্দুক রাখার পক্ষের লোক) বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, ঈশ্বরের নামে বলছি আমরা গান লবিদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে যাচ্ছি। এ দেশের প্রতিটি নির্বাচিত কর্মকর্তাকে এটা পরিষ্কার করে দিতে হবে যে এখনই এর বিরুদ্ধে কাজ করার সময়।

বাইডেন জানিয়েছেন, টেক্সাসের স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনায় তার দেশের পতাকা ২৮ মে পর্যন্ত অর্ধনমিত থাকবে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ মে) হোয়াইট হাউস থেকে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন।

দেশটির কর্তাব্যক্তিরা যেমন এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন ঠিক তেমনি জনগণ ও প্রবাসীরা শঙ্কিত। কখন কার উপর হামলা হয় সেই অনিশ্চিয়তার মধ্যেই জীবনযাপন করছেন সাধারণ নাগরিক। আবার কেউ কেউ রাস্তায় বেরুতেও পাচ্ছেন ভয়।

গোলাম কিবরিয়া নামে নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বলেন, এখানে প্রতিনিয়ত সড়কে বিভিন্ন অঘটন ঘটছে। এর থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। রাস্তায় বের হলে মনে হয় এই বুঝি হামলার শিকার হলাম। এই শিক্ষার্থী বলেন, এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে শহরের কর্তাব্যক্তিদের আইনে আরো কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে আসা জরুরি।

আব্দুর রহমান নামে আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করে ক্যাশ অর্থ নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া বেশ মুশকিল। ছিনতাইকারীরা যে কোন মুহূর্তে হামলে পড়তে পারে— এই ভয়ে পথ চলতে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। দিনে দিনে এই শহর অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ বলছেন, একটি শহর এভাবে চলতে পারে না। যেখানে প্রতিদিন কোন না কোন হামলার ঘটনা ঘটছে! আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে এখন ভয় হয়। কখন কি হয়ে যায় সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই।

তারা বলেন, আমাদের দেশকে এসব থেকে বের করে আনতে হবে। তার জন্য যদি আইনশৃঙ্খলার পদ্ধতিকে আরো কঠিন করা দরকার হয় তা করতে হবে। আমরা এই শহরে নিরাপদে চলাচল করতে চাই।

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন