সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার অভিযোগ, আগের সরকারকে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য জমি দিতে বারবার অনুরোধ করেও সাড়া পাওয়া যেত না। তবে সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়ির রাণিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) সীমান্ত সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অমিত শাহ।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তার দাবি, আগে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য জমি চেয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানোর আগেই রাজ্য সরকারের অনুমোদন চলে আসে।
অমিত শাহের বক্তব্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে আসে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরকে আরও শক্তিশালী করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল বলে জানান তিনি।
অমিত শাহের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দীর্ঘদিন এই জমি দেয়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ জন্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান শাহ। একই সঙ্গে শুক্রবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকেও তিনি গুরুত্ব দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত থাকতেন না বলেও মন্তব্য করেন শাহ। তার মতে, এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকায় বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো।
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদ ও দেশের ঐতিহ্যের বিষয়ও উঠে আসে শাহের বক্তব্যে। তিনি ‘বন্দেমাতরম’ গানটির পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
শাহের দাবি, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে গানটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবেশিত হয়নি। সংসদে গানটি গাওয়া হলেও তা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশন না করায় তার মতো অনেকের আক্ষেপ ছিল।
তার দাবি, ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ‘বন্দেমাতরম’ পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গানটির যথাযথ মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহ বলেন, এর ফলে নতুন প্রজন্ম ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা ও অবদান সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন