ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তজনা ও যুদ্ধের দামামার মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন চাল দিল বেইজিং। ওয়াশিংটনকে পেছনে ফেলে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ গড়ে তুলেছে চীন। মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থার (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চীনের ভাণ্ডারে এখন জমা আছে প্রায় ১৪০ কোটি ব্যারেল তেল, যা কি না ৩২টি শিল্পোন্নত দেশের সম্মিলিত মজুদকেও ছাড়িয়ে গেছে। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, যখন চীন তেলের পাহাড় গড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে উল্টো তেল বাজারে ছাড়ছে। যুদ্ধের কারণে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে আমেরিকার বর্তমান মজুদ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে, যা চীনের মজুদের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা চীনের এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত ‘চতুর ও সময়োপযোগী’ হিসেবে দেখছেন। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজ তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে: ১. বিশ্ববাজারে তেলের নিম্নমুখী দামের সুযোগ নেওয়া। ২. রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা করা। ৩. অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন সরকারি বাধ্যবাধকতা।
এদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এ সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পারস্য উপসাগরের ওপর। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে ইরান। তেহরানের সাফ কথা—আমেরিকা তাদের ওপর থেকে অবরোধ না সরালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলবে না তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন আগেভাগেই বুঝতে পেরেছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় তারা বছরের শুরু থেকেই প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি হারে তেল আমদানি করে নিজেদের পকেট ভারি করে রেখেছে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন