শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি

শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানে আগ্রাসনের শুরু থেকেই নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে সৌদি আরব। কিছু ক্ষেত্রে তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করেছে। তবে এবার ওয়াশিংটনকে তিনটি ইস্যুতে চাপ বাড়াচ্ছে রিয়াদ। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের এই সময়ে এসে সৌদি চাচ্ছে ইরানের সঙ্গে আলোচনা সফল হোক, একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি যেন শর্তহীনভাবে খোলা হয় এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি। এই তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চাপ বাড়াচ্ছে সৌদি বলে জানিয়েছে, একাধিক মার্কিন, পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা।

আরব ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেবাননে যুদ্ধবিরতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। যা কয়েকজন কর্মকর্তা সৌদি আরবের চাপের ফল বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এখনো স্পষ্ট নয় ইসরাইল এই চুক্তি মানবে কিনা এবং ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করবেন।

এদিকে হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের ইসরাইলের সঙ্গে বিরল সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সমালোচনা করেছে। যদিও লেবাননের সরকার এই আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

মিডল ইস্ট আইকে একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেছেন, মোহাম্মদ বিন সালমান চান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হোক এবং তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন লেবাননের যুদ্ধবিরতি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয়।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তার সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালিদ বিন সালমানও থাকতে পারেন। আরব ও পশ্চিমা সূত্র জানায়, সৌদি কর্মকর্তারা একটি আলোচনার প্রস্তাবও প্রচার করছেন।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন নেতানিয়াহু লেবাননে যুদ্ধ কমাতে সম্মত হয়েছেন। যদিও একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং একজন শীর্ষ আলোচক বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়।

পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তান একা এই প্রক্রিয়া চালাতে পারবে না। সৌদি আরবের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ। এই সপ্তাহে সৌদি আরব আর্থিক সংকটে থাকা পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন