পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটার সোরাঙ্গে এলাকায় কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। ধসে পড়া খনির ভেতরে এখনও আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া খনি থেকে আরও আটটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এখনো কয়েকজন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পিডিএমএ জানিয়েছে, প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, উদ্ধারকারী সংস্থা, খনি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ধসে পড়া অংশের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খনিতে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, খনির ভেতরে গ্যাস জমে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটলে খনির একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও তা অব্যাহত রয়েছে।
বেলুচিস্তান সরকার দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শোকাহত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য এই অর্থ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি দুর্ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি খনি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। তদন্তে অবহেলা বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বেলুচিস্তানের সব কয়লাখনিতে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে খনিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তদন্তে সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন