বৃহস্পতিবার, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

ফ্রান্সে দাবানলের তাণ্ডব, অগ্নিকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ৪০২ জন গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের ঘটনায় অগ্নিকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্যারিসের প্লেস বোভোতে অবস্থিত আন্তঃমন্ত্রণালয় অপারেশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের (সিওজিআইসি) এক বৈঠকের পর এ তথ্য জানান ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দাবানলের ঘটনায় অপরাধমূলক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে এখনই অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লরেন্ট নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ৪০২ জনের মধ্যে ৩৬ জনকে বর্তমানে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, আবার কেউ বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশজুড়ে দাবানলের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কিছু দাবানলের পেছনে মানুষের কর্মকাণ্ড, অসতর্কতা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মের শুরু থেকে ফ্রান্সে ১৪ হাজার ৫৪০টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

দাবানলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গিরন্দ বিভাগ। সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের ভার বিভাগেও বড় ধরনের দাবানল দেখা দিয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফরাসি সরকার ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। হাজার হাজার দমকলকর্মী, বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ যান এবং আকাশপথে পানি ছিটানোর সক্ষমতাসম্পন্ন বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। দাবানলের ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন সময়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, দাবানলের উৎস শনাক্ত করতে পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিচার বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বনাঞ্চলে আগুন ব্যবহারসহ নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি খরা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানলের ঝুঁকি আগের তুলনায় আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন