সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার পালটা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান

সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পালটা হামলা চালানো বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরান জানিয়েছে, তারাও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রেখেছে। খবর আলজাজিরার।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে আলোচনায় বিশ্বাসঘাতকতা করলেও তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন। এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না। ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, ‘দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।’

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন