বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ, ভারতের সমস্যা আরও বাড়াবে

বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পর মুম্বাই উপকূলে একটি আনলোডিং টার্মিনালে নোঙর করেছে এলপিজি বহনকারী ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাংকার। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।

যদিও ইরান নিজের জাহাজ চলাচল চালু রেখেছে, পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষে টোল ব্যবস্থা চালুর কথাও বিবেচনা করছে দেশটি।

গত শনিবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত ট্রাফিক বা নৌ-চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির পর পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বন্দরগুলো নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন করে অবরোধের হুমকি হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ভারতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই সরবরাহ ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের বাড়তি বিঘ্ন একটি তীব্র জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত করতে পারে এবং ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতির মাঝে ভারত ছিল সেই অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যাদের এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের বিশেষ অনুমতি (Safe passage) দেওয়া হয়েছিল। এটি নয়াদিল্লিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল।

সরকারের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শনিবারও ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। যার ফলে মোট জাহাজ পারাপারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে।

ট্রাম্প যদি তার এই অবরোধের হুমকি কার্যকর করেন, তবে ভারতের জন্য অবশিষ্ট এই সামান্য সুযোগটুকুও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসায় নয়াদিল্লি বাণিজ্যিক খাতের পরিবর্তে সাধারণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল অনেক কোম্পানির শিল্প-মুনাফা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম কোটি কোটি মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে।

মুম্বাই এবং দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে অনেক অভিবাসী শ্রমিক তাদের নিজ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ খাবার এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের খরচ মেটানোর সামর্থ্য তাদের আর নেই।

ভারত এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো প্রকার অর্থ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই হুমকি নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় ভারতের এখনো এক ডজনেরও বেশি জাহাজ আটকে আছে। মার্কিন অবরোধ কার্যকর হলে এই জাহাজগুলো মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে যেতে পারে, যা ভারতকে এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের আরও গভীরে টেনে নিয়ে যাবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন