সম্প্রতি ১৭ দিনের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বড় ধরনের আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ী। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।
সোমবার (৩ আগস্ট) স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, ‘এই সংঘাতকে তৃতীয় যুদ্ধ বা মহররমের ১৭ দিনের যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা উচিত। এ যুদ্ধে আমরা আমেরিকার বিরুদ্ধেও বড় ধরনের আঘাত হেনেছি।’
তিনি বলেন, বিশ্বের কাছে এই যুদ্ধ অপ্রত্যাশিত মনে হলেও ইরানের জন্য এটি ছিল পূর্বানুমানযোগ্য। তিনি দাবি করেন, জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগেই বলেছিলেন, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে গিয়ে হামলা চালাতে পারেন।
রেজায়ী আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম চার-পাঁচ দিন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছিলেন, দেশটি চুক্তির শর্ত পূরণের অপেক্ষায় থাকবে। কিন্তু ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে সমঝোতা স্বাক্ষর করলেও পরে এর শর্ত মানেননি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান রেজায়ী অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল এবং ইরানের সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করেছিল। এর জবাবে ইরান দুই থেকে তিনটি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাদের চুক্তির আওতায় ফিরে আসার বার্তা দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা সমঝোতা লঙ্ঘন করে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়েছে।
রেজায়ী দাবি করেন, ইরাকের কুর্দিস্তান ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা সফল হয়েছে। এসব হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে ওই দুটি ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মোহসেন রেজায়ী ইরান-ইরাকের আট বছরব্যাপী যুদ্ধের সময় আইআরজিসির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।






চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন