সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

শিরোনাম

২০টি মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান

সোমবার, জুন ১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব হামলার ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ্যে স্বীকার করা তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব হামলায় অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং রাডার ব্যবস্থার কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

গত তিন মাসে ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পালটা হামলার জবাবে তেহরান মার্কিন ঘাঁটি এবং যৌথ সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, পেন্টাগনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলার সফলতা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন আর মার্কিন সামরিক ঘাঁটির জন্য ‘নিরাপদ জায়গা’ নয়।

যদিও হোয়াইট হাউস বারবার দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে ইরানের পালটা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকারোক্তির চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল ও ব্যাপক ছিল।

তবে ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার’ কারণ দেখিয়ে বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধান নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা।

এদিকে, সংঘাতের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বড় স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। প্ল্যানেট বলেছে, তাদের ছবি যাতে প্রতিপক্ষ শক্তি ব্যবহার করে মিত্র দেশ ও ন্যাটো-সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করতে না পারে, সে কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিবিসি ভেরিফাই অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারীর ছবি এবং প্ল্যানেটের পুরোনো চিত্র ব্যবহার করে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনাগুলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, হামলার শিকার মার্কিন ঘাঁটির সংখ্যা ২৮টিও হতে পারে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন