বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে বারবারই দেখা দেয় নানা জটিলতা। অনেক সমস্যা সঙ্গী করেই প্রতি বছর হয়ে আসছে প্রতিযোগিতাটি। তবে গত দুই আসরে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পর এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করার তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
বয়সভিত্তিক তিন দলের নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন তামিম ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা। সেখানে বিসিবি প্রধান দেন ওই বার্তা।
বিসিবির দায়িত্ব নিয়ে তামিম জানান, জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল আয়োজনের পক্ষে নন তিনি। সেই সিদ্ধান্তে এখনও অনড় আছেন সাবেক এই বাঁহাতি ওপেনার। (বিপিএল হবে কিনা?) আই ডোন্ট থিংক সো। এ বছর বিপিএল হবে না।”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে ফ্রাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করে বোর্ডের আর্থিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে, সেখানে বিসিবির ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টোটা। টুর্নামেন্ট আয়োজন করে লোকসান হচ্ছে বোর্ডের। পরের আসর থেকে আর কোনো লোকসান দেখতে চান না বিসিবি প্রধান।
“গত দুই বছরে বিপিএলে ৪০ কোটি টাকা লোকসান করেছে বিসিবি। যে টুর্নামেন্ট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, সেখানে লোকসান হচ্ছে। এটি সংশোধন না করা পর্যন্ত প্রতি বছর (এই টুর্নামেন্ট) আয়োজন করা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের ইচ্ছা আছে এক হাাজার শতাংশ এটা (আয়োজন) করার। কিন্তু আমি তাড়াহুড়া করতে চাই না। এটা সঠিকভাবে করতে যদি ৬, ১২ বা ২৪ মাস সময় লাগে আমি সেই সময় নেব। বিপিএলকে (বিসিবির জন্য) লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েই আমরা বিপিএল আয়োজন করব।”
সঠিক পরিকল্পনায় বিপিএল আয়োজন করতে বিসিবি কীভাবে এগোচ্ছে, সে বিষয়েও কিছুটা ধারণা দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি।
“আমরা যদি এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজি নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ভালো হবে। আগে দেখা যেত অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেডলাইন দেওয়া হতো এবং সময়ের অভাবে অনেক কিছু ঠিক করা যেত না। আমি চাই পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিশ্চিত করতে, যেন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা পরিস্থিতির কারণে টুর্নামেন্ট নষ্ট করতে না পারে। “যদি কেউ ডিফল্ট করে, তবে যেন আমার হাতে বিকল্প ফ্র্যাঞ্চাইজি খোঁজার জন্য ৩-৪ মাস সময় থাকে। আমি চাই বিসিবি বা বাংলাদেশের ক্রিকেট যেন কোনো ঝামেলার মধ্যে না পড়ে।”
বিপিএলের আগের আসরগুলোতে ফ্রাঞ্চাইজি বরাদ্দ, দলগুলোর সঙ্গে বিসিবি ও খেলোয়াড়দের চুক্তির ক্ষেত্রে নানান অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব এড়াতে এবার টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার সমালোচনা মানতে রাজি তামিম।
“বিপিএল একটি বড় পণ্য এবং মানুষের অনেক আগ্রহ আছে। তাই বিসিবির মর্যাদা বজায় রেখে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই এগোব। এর জন্য যদি সমালোচনা শুনতে হয়, আমি তাতে রাজি আছি। আমরা একটি ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। ঘরোয়া ক্যালেন্ডার নিয়ে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ কাজ গুছিয়ে এনেছি। যখন এটি ঘোষণা করব তখন আপনারা অনেক নতুনত্ব দেখতে পাবেন।”
দেশের একমাত্র ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজিত না হলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন ক্রিকেটাররা। এ বিষয়টিও মাথায় রেখেছেন বিসিবি সভাপতি।
“খেলোয়াড়দের কাছে বার্তা যাচ্ছে। আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে, এটা অস্বীকার করি না। কিন্তু তারাও বোঝে, এই টুর্নামেন্ট এমন হওয়া উচিত যা নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? সম্ভবত না।
“খেলোয়াড়রাও স্বীকার করে, জিনিসটা সুন্দরভাবে হওয়া উচিত। লজিক ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে মূল বিষয় হলো টুর্নামেন্টটা সঠিকভাবে চালানো। বিপিএল একটা গ্রেট প্রোডাক্ট এবং এটায় প্রচুর আগ্রহ আছে। এটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে আগ্রহ আরও বাড়বে।”
আইসিসির সবশেষ বোর্ড সভায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তামিম ইকবাল। সেই দায়িত্বের পর বিপিএল সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের দায়িত্ব বেড়েছে, সেটাও স্পষ্ট করেন।
“আমার দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট যদি সঠিকভাবে তৈরি না হয়, তবে সেটি বন্ধ করে নতুন করে শুরু করা আমার কমিটির জন্য একটি বড় বার্তা হবে। আমি চেয়ারম্যান হয়ে যদি দেখি আমার নিজের দেশে অনিয়ম চলছে, তবে সেটা বন্ধ করে সুন্দরভাবে রিভাইভ করাটাই ভালো অপশন। আমি আপাতত বন্ধ করে, পুরা জিনিসটাকে সুন্দর করে রিভাইভ করতে চাই।”


চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন