রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু: নিউইয়র্কে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

উত্তর আমেরিকা অফিস: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুল মালেকের ছেলে শিহাব উদ্দিন মালেক সাগরের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সন্দ্বীপ কমিউনিটি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে তদন্তের ফল জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।

মানববন্ধনে সাগরের চাচা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আনোয়ার হোসেন সিপিএ অভিযোগ করে বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে যাকে পরবর্তীতে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এবং সাগরের শেষ মুহূর্তের যোগাযোগসূত্রগুলো খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সন্দ্বীপ সোসাইটি ইউএসএর ট্রাস্টি বোর্ডের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, মেরিন ক্যাপ্টেন সৈয়দ আই হোসেন, ড. হোসনেরা মালেক এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের সেক্রেটারি লায়ন মাসুদ রানা তপন।

বক্তারা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানান এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, নিহত শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর (৩৬) যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী ও ব্রুকলিনের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। তার পৈত্রিক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাগর ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকায় চলে আসেন এবং গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। এরই মধ্যে তার সাথে মাহজাবিন ইসলাম রিয়া নামের এক মেয়ের পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রিয়া সাগরের অর্থ আত্মসাতের লক্ষে তাকে হানি ট্র্যাপে ফেলে তার সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়। যথারীতি সাগর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে রিয়া বিয়ে করতে গড়িমসি ও একপর্যায়ে অমত পোষণ করে। এতে করে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১৯ আগস্ট সকাল ১০টা ৫ মিনিটের ফ্লাইটে সাগর ঢাকায় আসেন। ২১ আগস্ট দুপুর ৫টা ১৫ মিনিটে ফেরার জন্য তিনি টিকিট করেছিলেন বলেও পরিবারের কাছে তথ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ২০ আগস্ট ভাটারা থানা এলাকায় একটি এপার্টমেন্টে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন